ঢাকা

রমজানের প্রস্তুতি: রোজা ও ইবাদতের জন্য

ফুলবাড়ীয়া টুডে ডেস্ক

প্রকাশিত: বুধবার, ফেব্রুয়ারী ২৬, ২০২৫


শাবান মাস প্রায় শেষের পথে। রমজানের আর বেশি দিন বাকি নেই। মুসলিম উম্মাহর দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র মাহে রমজান। মহান আল্লাহ তায়ালার রহমত, বরকত ও নাজাত পেতে হলে আমাদের এখনই নিতে হবে রমজানের পূর্ণ প্রস্তুতি। যত ভালো প্রস্তুতি আমরা গ্রহণ করবো, রমজান মাসে সিয়াম সাধনাও তত মজবুত হবে।

হযরত মোহাম্মদ (স.) ইরশাদ করেছেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহর কোনো বান্দা যে কোনো ভালো কাজ বা আমল যদি উত্তম উপায়ে করে, তবে সে আমল বা কাজ আল্লাহ তায়ালা পছন্দনীয় হিসেবে গ্রহণ করেন।" (তাবারানি)

সাহাবিদের জীবনী পড়লে দেখা যায়, রমজান উপলক্ষে তারা ইবাদতের পরিকল্পনা করতেন। পবিত্র কুরআনে উল্লেখ আছে, "রমজান মাস, এতে মানুষের পথপ্রদর্শক ও সৎ পথের স্পষ্ট নিদর্শন এবং ন্যায়-অন্যায়ের মীমাংসারূপে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছিলো। অতএব, তোমাদের মধ্যে যে কেউ এ মাস পাবে, সে যেন এ মাসে অবশ্যই রোজা রাখে।" (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৫)

একজন মুমিনের জন্য রমজান মাসের প্রস্তুতি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। রমজানের প্রস্তুতি নিতে আমরা কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারি:

১. নিয়ত করা

রোজা রাখার জন্য সর্বপ্রথম মানসিকভাবে আমাদের নিয়ত করতে হবে, যেন সুস্থভাবে সম্পূর্ণ রোজা রাখা যায়। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় রমজান মাসের রোজাগুলো রাখে, তার পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়।"

২. তওবা করা

তওবা করা ওয়াজিব। অতীতের ভুল-ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে, যেন পবিত্র ও প্রশান্ত হৃদয় নিয়ে রমজানে আল্লাহর আনুগত্য করা যায়। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, "হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তওবা কর; যাতে করে সফলকাম হতে পার।" (সুরা আন-নূর, আয়াত: ৩১)

৩. রমজানের আগমনে খুশি হওয়া

রমজান মাসে জান্নাতের দরজা খুলে রাখা হয়। তাই রমজানের আগমনে সকলের খুশি হওয়া উচিত। পবিত্র কুরআনে আছে, "তাদের বলে দাও, আল্লাহর এই দান ও রহমতের প্রতি সকলেরই আনন্দিত হওয়া উচিত; তা দুনিয়াবি সম্পদ হতে বহুগুণে উত্তম।" (সুরা ইউনুস, আয়াত: ৫৮)

৪. শাবান মাসে রোজা রেখে প্রস্তুতি শুরু

রমজান মাসের প্রস্তুতি স্বরূপ শাবান মাস থেকেই রোজা শুরু করা উচিত। হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন, "রাসুলুল্লাহ (স.) শাবান মাসে অধিক রোজা পালন করতেন।" (বুখারি ১৮৬৮, মুসলিম ১১৫৬)

৫. কুরআন তেলাওয়াত চর্চা করা

রমজান মাসকে বলা হয় কুরআন নাজিলের মাস। সাহাবিরা অন্যান্য মাসের তুলনায় রমজান মাসে দ্বিগুণ কুরআন খতম দিতেন। তাই বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত করতে হবে।

৬. ভাঙতি রোজার কাজা আদায়

পূর্বের বছরের ফরজ রোজা অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে আদায় না হলে সেটা আদায় করে নিতে হবে। হজরত আয়েশা (রা.) বলেছেন, "আমার উপর বিগত রমজানের রোজা বাকি থাকতো, যার কাজা আমি শাবান ছাড়া আদায় করতে পারতাম না।" (বুখারি ১৮৪৯, মুসলিম ১১৪৬)

৭. অন্যায় থেকে বিরত থাকা

ছোট-বড় সকল গুনাহ থেকে বিরত থাকতে হবে। শির্ক থেকে মুক্ত থাকা ও হিংসা-বিদ্বেষ মুক্ত থাকা উচিত।

৮. পারিবারিকভাবে রমজানের প্রস্তুতি

পরিবারের সকল সদস্য একত্রে রোজার বিধি-বিধান আলোচনা করা ও সেই অনুযায়ী আমল করতে হবে। ছোট শিশুদের রমজানে রোজা রাখতে উৎসাহিত করতে হবে।

৯. মাসয়ালা-মাসায়েল জানা

রোজার মাসয়ালা-মাসায়েল জেনে নিতে হবে এবং রমজানের ফজিলত সম্পর্কে অবগত হতে হবে।

১০. ইসলামি বই পড়া

ইসলামি বই সংগ্রহ করে পড়তে হবে এবং মসজিদের ইমামকে বই হাদিয়া দিতে হবে, যেন তিনি মুসল্লীদের শোনাতে পারেন।

রমজানের বিশেষ তিনটি আমল হলো কম খাওয়া, কম ঘুমানো ও কম কথা বলা। সকল প্রকার হারাম কাজ থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে যথাযথভাবে রোজা রাখার তাওফিক দিন। আমিন।